নির্মাণ খাতের শ্রমিকরা আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেনা

saudi_arabia_construction_site-400x264জাফর আহমদ: নির্মাণ খাতের শ্রমিকরা আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন নির্মাণ খাতের শ্রমিক, শ্রমিক নেতা ও গবেষক। তারা বলেন, নির্মাণ খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য আইন থাকলেও সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর দায়িত্ব পালন করছে না। শ্রমিকরা সংগঠিত না হওয়ার কারণে আইনি অধিকার আদায় করে নিতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রামরু আয়োজিত সেমিনারে তারা এ সব কথা বলেন। সিআর আবরার উপস্থাপনায় সেমিনারে সম্মানিত আলোচক ছিলেন, ড. হামিদা হোসেন, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিলস এর সৈয়দ সুলতান আহমেদ, নির্মাণ খাতের উদ্যোক্তা মমতাজুল ইসলাম, এডভোকেট জাফরুল হাসান, শ্রমিক নেতা মাহাবুবুল আলম, ফয়েজ হোসেন প্রমুখও।
অনুষ্ঠানে সৈয়দ সুলতান আহমেদ বলেন, নির্মাণ খাতের শ্রমিকদের বঞ্চনার একমাত্র কারণ হলো, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র না থাকা। নিয়োগপত্র নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের সকল পাওনা পথ পরিস্কার হবে। তিনি বলেন, নিয়োগপত্র ছাড়া কাজ করাতে পারা মানেই হলো আইন ও শ্রমিককে অস্বীকার করা। এ অবস্থায় কাজ করতে পারলে শ্রমিকের যে কোন দাবি থেকে দূরে অবস্থান করে কাজ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, দরপত্র ছাড়া সরকারের কোন কাজ হয় না। দরপত্র দেয়ার সময় শ্রমিকদের মজুরি ও নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ থাকলে শ্রমিকদের অধিকাার পেতে সহজ হয়। এতে নিয়োগকর্তা যেমন সচেতন হয় তেমনি শ্রমিকরাও দায়িত্ববান হয়। প্রচলিত শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য তিনি জোর দেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন,সরকার রাজনৈতিক নেতাদের মনিটরিং এর জন্য সিসি ক্যামেরা বসাতে পারলেও শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সে ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে না। পাশাপাশি শ্রমিকরাও অসচেতন হওয়া অধিকার আদায়ের পথে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা।
হামিদা হোসেন বলেন, কারখানা পরিদর্শকরা সঠিক কাজ করেন না। তারা কোন কারখানা বা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে গিয়ে ম্যানেজারের সাথে আলাপ করে ‘সঠিক আছে’ সার্টিফিকেট দিয়ে চলে আসে। এর মধ্য দিয়ে শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বা অস্বাস্থ্যকর ও ঝুকিপুর্ণ কাজ করছে, তা গোপন থেকেই যাচ্ছে।
এ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান বলেন, রাজধানীর ভবন নির্মাণে আগে যে নকসা অনুমোদন দেয়া সেখানে সচেতন হলেও শ্রমিকের নিরাপত্তার অর্ধেক কাজ হয়ে যায়।
ফয়েজ হোসেন বলেন, অন্যান্য ক্ষেত্রে দাঁদন উঠে গেলেও নির্মাণ খাতে এখনও দাঁদন আছে। গ্রামাঞ্চলে নামেমাত্র টাকার নামে দাঁদন দিয়ে শ্রমিক এনে শহরে নির্মাণ খাতে কাজ করানো হয়।