শিরোনাম

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:২২ দুপুর
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:২২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১৬ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি গার্মেন্টস টিএইসির

রফিক আহমেদ : গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে শ্রম মন্ত্রণালয় অভিমুখে মিছিল ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে আপত্তি পেশ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনটি ১৬ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। সমাবেশ থেকে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকল শিল্প এলাকায় মিছিল, পদযাত্রা ও শ্রমিক সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশ শেষে শ্রম মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সচিবালয় সংযোগ সড়কে পুলিশ ব্যারিকেটে পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হয়। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় এবং ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কতিপয় প্রক্রিয়াগত ও আইনী ব্যত্যয়ের আপত্তি এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি পুনর্বিবেচনা করে ১৬ হাজার টাকা ঘোষণা ও অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে আপত্তিপত্র পেশ করে।

শ্রম মন্ত্রণালয় অভিমুখে মিছিল পূর্ব সমাবেশে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর শ্রম প্রতিমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম বেসিক মজুরি ৪ হাজার ১শত টাকা এবং মোট মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনসমূহ এ ঘোষণাকে অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

টিএউসি’র সাধারণ সম্পাদক বলেন, শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর বিধি ১২৮(১) অনুযায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সুপারিশ গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করার কথা এবং সংশ্লিষ্ট যে কোন পক্ষ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে তাদের আপত্তি বা সুপারিশ লিখিতভাবে বোর্ডকে অবহিত করতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য শ্রম প্রতিমন্ত্রীর মৌখিক ঘোষণার আগে ও পরে শ্রম বিধিমালা মানা হয়নি। একদিকে ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ন্যায্যতার বিচারে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে প্রক্রিয়াগত ও আইনী ব্যত্যয়ের ফলে শ্রমিকপক্ষের অংশগ্রহণ, আপত্তি প্রদান এবং ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের পথ রুদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি বাজার পরিস্থিতি, গার্মেন্টস শিল্প এবং দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকের অবদান বিবেচনা করলে এই শিল্পে শ্রমিকের মজুরি কোনভাবেই ১৬ হাজার টাকার নিচে হতে পারে না। উপরন্তু আপনার ঘোষিত ৪ হাজার ১শত টাকা বেসিক মজুরি শ্রমিকের ওভারটাইমসহ অন্যান্য সকল আইনী পাওনার ক্ষেত্রে তাদের ক্ষতিগ্রস্থ করবে। দেশের সর্বাধিক রপ্তানি আয় করা শিল্পখাতে শ্রমিকের মজুরি রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের ঘোষিত নিম্নতম মজুরির অর্ধেক, এই চরম বৈষম্য কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আরো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কোন বিকল্প দেখা যাচ্ছে না।
শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীমের সভাপতিত্বে এবং শ্রমিকনেতা ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট টিইউসির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ঢাকা মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ট্যানারী শ্রমিক নেতা আক্তার হোসেন, গার্মেন্ট টিইউসি’র কেন্দ্রীয় নেতা জালাল হাওলাদার, কেএম মিন্টু, এমএ শাহীন, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

তিনি গার্মেন্টস টিইউসি প্রদত্ত আপত্তিপত্রে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর ‘আগাম’ ঘোষণা প্রত্যাহার এবং শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৪০(২) অনুযায়ি মজুরি বোর্ডের প্রস্তাবনা শ্রমিকগণের জন্য ন্যায় সঙ্গত নয় মর্মে বোর্ডের কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর দাবি জানান। একইসাথে অনতিবিলম্বে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সকল গ্রেডে মজুরি ও সোয়েটারে পিসরেট একই হারে বৃদ্ধি করে তা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি করা হয়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা কেএম মিন্টু, এমএ শাহীন ও দুলাল সাহা।

আমাদেরসময়.কম whatsapp চ্যানেল ফলো করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়