আহমেদ ইসমাম: পদ্মার ভাঙনের ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার বাড়ি ঘর বিলিন হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পরছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। ছেড়ে যেতে হচ্ছে স্বপ্নের বাড়ি। এ নিয়ে ভাঙন কবলিত এলাকায় সচেতন মূলক প্রচারনা পরিচালনার প্রয়োজন হলেও সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ নেই। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রচারণায় নামবে বলে জানাগেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সাহাজান মন্ডল বলেন, এখন যেহেতু পদ্মা সেতুর কাজ চলছে তাই নদীশাসন করা হয়েছে। এত নদীর উপর চাপ বেড়েছে। নদী ভাঙার এটাও একটা কারণ হতে পারে।
যে সব এলাকায় নদী ভাঙার আশংকা থাকে সেখানকার বাসিন্দাদের আগে থেকে সচেতন করলে ক্ষয় ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে আমাদের দেশের অবস্থান কিছুটা নিচের দিকে হওয়ায় এখানকার নদীর স্রোত বেশি থাকে। এ ছাড়া এখানকার মাটিতে পলি পরিমান ৪০ শতাংশ হওয়া মাটি নরম। এতে খুব সহজে নদীর ভাঙন দেখা দেয়। নদীতে বাধ দেওয়া আমাদের মত দেশে সম্ভব নয়। কারণ দুই ধারে এক মিটার বাধ নির্মাণে প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়। এত টাকা খরচ করে বাধ নির্মাণ করে কতটা অর্থনৈতিক ভাবে সফল সেটাও হিসাব করার বিষয়। তবে নদীর ধারের শহর ও বাজারগুলোকে রক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। আমার চাইলেই বালুর বস্থা ফেলে রক্ষা করতে পারি। এটার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ভাঙন শুরু হওয়ার পরে তৎপর হলে চলবে না। নদীর দুই ধারে কিছু জয়গায় আছে তা ১৫ থেকে ২০ বছর পর পর ভাঙে আবার গড়ে। এ সব জায়গায় বসত নির্মণ করা ঠিক না। কারণ এ জায়গাগুলা যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। এমন কি এ সব জায়গায় সরকারি ভবনও নির্মণ করা ঠিক নয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক আনোয়ার জাহিদ বলছেন, নদী ভাঙন নিয়ে সচেতন মূলক প্রচারনার কার্যক্রম আমারা চালাই না। তবে এই বিষয়টা এখন আমাদের ভাবার সময় এসছে। যে সব এলাকায় নদী ভাঙার আশংকা থাকে সে সব এলাকায় সাধারণ মানুষকে আগে থেকে সরে যাওয়ার জন্য প্রচারনা করতে পারি। আমাদের পরবর্তী সভায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে আনব। তিনি মনে করেন, মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে নদী ভাঙন থেকে জান মাল রক্ষা করা সম্ভব।
সেন্টার ফর ইনভারমেন্ট জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস এর সহকারি নির্বাহি পরিচালক মমিনুল হক সরকার বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে নদী ভাঙছে না। নদীর যতটুকু জায়গা দরকার তা ঠিক রেখেই কাজ করা হচ্ছে। নদী ভাঙার মুল কারণ প্রকৃতিক।