ডেস্ক রিপোর্ট : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় আছিয়া খাতুন (২২) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে।
আজ বুধবার সকালে উপজেলার ধোপাদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আজ বিকেল ৩টার দিকে ওই ভুক্তভোগী গৃহবধূ আছিয়া সাংবাদিকদের জানান, তার শাশুড়ি পারুল বেগম ও দেবর মিলন জোর করে তাকে বিষ খাওয়ায়। পরে তার চিৎকারে বিষয়টি গ্রামের লোকজন জানতে পারলে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে তার শাশুড়ি ও দেবর তাকে ওয়াশ করান।
আছিয়ার বাবা সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আনছার ব্যাটেলিয়ানের দায়িত্ব পালন করি। পাঁচ বছর আগে আমার মেয়ের বিয়ে হয় একই উপজেলার ধোপাদী গ্রামের হারান বিশ্বাসের ছেলে জহির বিশ্বাসের সাথে। স্বামী দেশে না থাকায় আছিয়ার শাশুড়ি, দেবর, ননদ ও নদদের স্বামী প্রায়ই তাকে নানাভাবে নির্যাতন করত।’
সালাউদ্দিন আরও বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার বাড়িতে এসে মেয়েকে আনতে তার শ্বশুর বাড়িতে যাই। মেয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেলেও অনেক মহিলাদের জটলা দেখতে পাই। তাদের জিজ্ঞাসা করে কিছু না জানতে পেরে একজনের ইশারায় ধোপাদী বাজারে গিয়ে দেখি এক গ্রাম্যচিকিৎসকের দোকানে আমার মেয়েকে ওয়াশ করা হচ্ছে। বেলা ১২টার দিকে একটি মাইক্রোর ব্যবস্থা করে মেয়েকে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসক তাকে ওয়াশ করে ভর্তি রেখেছেন। এখানে এসেও মেয়ের শ্বশুর পক্ষের লোকজন গোলযোগ করছিল। চৌগাছা থানা পুলিশ এসেছিল। ঘটনাস্থল অন্য থানায় হওয়ায় রোগী একটু সুস্থ হলে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করব।’
চৌগাছা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আওরঙ্গজেব বলেন, ‘মঙ্গলবার ওই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীর অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। শুনেছি রোগীর স্বজনরা হাসপাতালেও গোলযোগ করেছে।’
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আছিয়ার দেবরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই তিনি ফোন কেটে দেন।
চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এএসআই ) আকিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়েছিলাম। যেহেতু ঘটনাস্থল কালীগঞ্জ থানায়। এজন্য তাদের কালীগঞ্জ থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’