হুমায়ুন কবির খোকন: সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্বব্যাপী অরাজকতা, অশান্তি ও মৌলবাদী অপশক্তির বিস্তাররোধে ফোকলোর চর্চার ওপর গুরুত্বরোপ করেছেন। তিনি বলেন, যেখানে ফোকলোর চর্চা আছে- সেখানে সন্ত্রাস-অরাজকতা-হিংসা-বিদ্বেষ নেই বরং সেখান মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানুষের জয়গান সমুন্নত থাকে।
তিনি বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে এক আন্তর্জাতিক লোক উৎসব ও সেমিনারে অতিথির ভাষণে একথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গের লোকজ প্রতিষ্ঠান ‘লৌকিক’ এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ফোকলোর বিশেজ্ঞরা এতে অংশ গ্রহন করেন। এই উৎসবে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ৫ জন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের সাবেক যোগাযোমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন শিক্ষাদ্যোক্তা ও লেখক ক্যাটাগরিতে সম্মাননা লাভ করেন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লোকজ প্রতিষ্ঠান লৌকিক-এর সভাপতি অধ্যাপক বরুণ কুমার চক্রবর্তী। বক্তব্য রাখেন- বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার সদস্য ডা. মানস ভুইয়া, বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতার হোসেন, ডায়মন্ড হারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড.তপন কুমার মন্ডল, গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক সাধন সাহা, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুগ্ম-সচিব অমল -কান্তি রায় প্রমুখ। সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সম্পর্ক নাড়ির। আমরা বড় হয়েছি- একই আলো-বাতাসে। আমাদের ভাষা এক। আমরা বাংলায় কথা বলি। আমাদের সাহিত্য ও লোকজ আচারের উৎসমূল এক। এই আন্তর্জাতিক সেমিনার ও লোক উৎসব দু’দেশের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করবে এবং দু’দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
শিক্ষা মানব সম্পদ উন্নয়নের চাবিকাঠি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হলো মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ অলংকার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের চাবিকাঠি। এজন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উপমহাদেশের বাংলা ভাষাভাষি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমিও বাংলাদেশে আমার এলাকা মাদারীপুরে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে ৬টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। অসংখ্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছি। আমার এলাকা বর্তমানে বাংলাদেশের ‘শিক্ষাঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত।
লোক উৎসবে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সম্মাননা পদকপ্রাপ্তদের সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি তাদের ায়বদ্ধতা আরো বাড়াবে। সমাজকে সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে নিবে। দেশে দেশে মানুষের মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় করবে। দু’নি ব্যাপী আয়োজিত এ লোক উৎসব আজ শেষ হবে।