প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদেই ‘ডিজিটাল আইনের’ আপত্তি জানিয়েছিলেন ৮ সংসদ সদস্য

রবিন আকরাম : সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাসের আগেই জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র ৮ সংসদ সদস্য আপত্তি জানিয়েছিলেন। নিজেদের মনোনীত ৩, ৪ ও ৫ সদস্যর বাছাই কমিটিতে বিলটি পাঠিয়ে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার দাবি তোলেন তারা।

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাবের পর বিলটির ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনীর প্রস্তাব দেন জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র এমপিরা। তারা হলেন— নুরুল ইসলাম ওমর, সেলিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম চৌধুরী, ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম মিলন, রুস্তুম আলী ফরাজী, বেগম রওশন আরা মান্নান ও শামীম হায়দার।

বিলটি পাসের আগে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, বিলে স্টেকহোল্ডারদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। বাকস্বাধীনতার জন্য এটা উদ্বেগজনক। এটি একটি প্রশ্নবিদ্ধ বিল। গণমাধ্যমের উদ্বেগ ও মতামত উপেক্ষা করা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা তৈরি করবে। দেশে সুশাসনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এই বিলের কারণে তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি।

নূরে হাসনা লিলি চৌধুরী বলেন, বিলটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যাচাই-বাছাই হওয়া প্রয়োজন।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আমি এই কমিটির একজন সদস্য। বিলটি নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু এটা নিয়ে অনেক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তাই আমি আমার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। একইসঙ্গে বিলটি পাস করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি।

প্রস্তাব দেওয়া অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তাদের যুক্তি তুলে ধরেন। কণ্ঠভোটে তাদের সে প্রস্তাবও নাকচ হয়। একঘণ্টা ৬ মিনিট আলোচনার পর রাত ৮টা ২৬ মিনিটে কণ্ঠভোটে এই বিলটি পাস হয়।

এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। তখন থেকেই আইনটি নিয়ে আপত্তি ওঠে। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা নিয়ে আপত্তি জানায়। এছাড়া, ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা আইনের ২১, ২৮, ৩২ ও ২৫ ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানায়। ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। পরে বিভিন্ন মহলের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৯ এপ্রিল বহুল আলোচিত ’ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ