প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামালপুর, বগুড়া ও টাঙ্গাইলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আনিস রহমান : যমুনা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জামালপুর, বগুড়া ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ভোগান্তির মুখে পড়ে অসংখ্য মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত খবর:

জামালপুর : জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা-বহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল পাবিত হয়েছে। এতে ইসলামপুর উপজেলার কয়েক’শ একর রোপা আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার বেরকুশা, মধ্যে বেলগাছা, আজমবাদ, বামনা, ডেবরাইপেচ, দেওয়ানপাড়া, মন্নিয়া, বরুল ও সিন্দুরতলী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চিনাডুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, তার ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. মালেক জানান, শুধু বন্যা নয় এসব এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙন অব্যহত রয়েছে।

বগুড়া : যমুনার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির কারণে জেলার ৩টি উপজেলার প্রায় ৩১টি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় বর্তমানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা যেমন বিপাকে পড়েছে তেমনি অভিভাকরাও শংকায় রয়েছেন, কারণ আর মাত্র দুইমাস পরেই প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা। জানা গেছে, যমুনার নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চল বেষ্টিত সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলা।

সারিয়াকান্দি উপজেলার এ পর্যন্ত ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় বন্ধ রয়েছে পাঠদানের কার্যক্রম। সোনাতলা উপজেলার ৮টি ও ধুনট উপজেলায় ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

টাঙ্গাইল : যমুনা নদীর টাঙ্গাইল অংশে বিভিন্ন পয়েন্টে উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিন আগে বৃষ্টির কারণে পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সাত দিনে নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। জেলার যমুনা তীরবর্তী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়নের মাহমুদনগর, কুকুরিয়া; ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা, বরুহা, কুঠিবয়ড়া, জগৎপুরা, তারাই, বলরামপুরসহ বিভিন্ন পয়েণ্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনা পাড়ের চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন কবলিত এলাকা ১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পরিদর্শন করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম। এ সময় তিনি ভাঙন রোধে সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়নের মাহমুদনগর গ্রাম, কুকুরিয়াসহ ভূঞাপুর উপজেলার কুঠিবয়ড়া এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ